পুষ্টিগুণ ও উপাদেয়তার দিকটি বিবেচনা করে যদি আমরা খাবারের একটি তালিকা করি, সে তালিকার প্রথম সারিতেই থাকবে ‘মধু’র নাম। এটি শরীরের জন্য উপকারী এবং নিয়মিত মধু সেবন করলে অসংখ্য রোগবালাই থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। এটি বৈজ্ঞানিকভাবেই প্রমাণিত।
লিচু মধু হলো বসন্তকালে (সাধারণত মার্চ মাসে) লিচু বাগান থেকে মৌমাছির সংগৃহীত একটি অত্যন্ত সুস্বাদু, হালকা হলুদ রঙের ও মন মাতানো সুগন্ধযুক্ত প্রাকৃতিক মধু।এটিঅ্যান্টিঅক্সিডেন্ট,খনিজ ও ভিটামিন সমৃদ্ধ, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হজমে সহায়তা করে এবং হাড় ও দাঁত মজবুত করে
Litchi Flower Honey (লিচু ফুলের মধু) এর বৈশিষ্ট্য:
১। লিচু ফুলের মধু ঘন, পাতলা ও মাঝারি ঘন এই তিন অবস্থাতেই পাওয়া যায়। সাধারণত এই মধুর রং ঘনত্বের উপর নির্ভর করে হলুদ, হালকা হলুদ, ফ্যাকাশে সোনা, অ্যাম্বার ইত্যাদি রঙের হয়ে থাকে। এখানে মধুর রং অনেকগুলো বিষয় যেমন মৌসুম, নেকটার কাউন্ট, খামারি, প্রাকৃতিক ইত্যাদির উপর নির্ভর করে।
২।খাঁটি মধু থেকে অনেক সুন্দর লিচুর সুগন্ধ আসার পাশাপাশি এটি খেতে অনেক মজা লাগে। অন্যদিকে, শীতকালে খাঁটি লিচুর মধু হালকা অথবা পুরোপুরি জমে যেতে পারে। অনেকে মনে করে জমে গেলে মনে হয় তাতে চিনি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে অবশ্যই মনে রাখবেন খাঁটি মধু শীতকালে কিঞ্চিৎ অথবা অনেকাংশ জমে যায়।
৩। লিচু ফুলের মধুতে যে সকল পুষ্টি উপাদান থাকে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মিনারেল, এনজাইম, ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৫, বি৬, অল্প পরিমাণে ভিটামিন সি, থায়ামিন, নিয়াসিন, শর্করা, গ্লুকোজ এবং ফ্রুক্টোজ।
৪। এই সকল উপাদান সমৃদ্ধ মধুর pH মান যদি ৩.৪ থেকে ৬.১ এর মধ্যে থাকে তাহলে ধরে নিতে হবে এটি পিওর অন্যথায় তাতে ভেজাল মেশানো আছে। যাইহোক, আমরা বাজারে দুই ধরনের মধু দেখতে পাই। এদের মধ্যে প্রাকৃতিক মধুর দাম বেশি কারণ এটি সচরাচর পাওয়া যায় না। অন্যদিকে খামারি দ্বারা সংরক্ষিত মধুর মান একটু কম হওয়ায় তা কম দামে বিক্রি করা হয়।
মধুর উপকারিতা
১। মধু দেহে তাপ ও শক্তি জুগিয়ে শরীরকে সুস্থ রাখে।
২।ঠাণ্ডা-জ্বর কিংবা সর্দি-কাশি সাড়াতে এই মধু তুলনাহীন।
৩।পাকস্থলীর কাজকে জোরালো করে এবং হজমের গোলমাল দূর করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
৪। রক্তেরহিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করে বলে এটি রক্তশূন্যতায় বেশ ফলদায়ক।
৫।মধুতে নেই কোনো চর্বি ফলে ওজন কমে।
৬। মধু রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
৭। উচ্চ রক্তচাপ কমায় ফলে হার্ট ভালো থাকে।
৮। গাজরের রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে দৃষ্টিশক্তি বাড়ে।
৯। মধু শরীরের রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়ায়
১০। এতে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট থাকে, যা ত্বকের রং ও ত্বক সুন্দর করে।
১১। মধুতে আছে একধরনের ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধকারী উপাদান,যা অনাকাঙ্ক্ষিত সংক্রমণ থেকে দেহকে রক্ষা করে। ১২। গলার স্বর সুন্দরও মধুর করে।
১৩। হাড় ও দাঁত মজবুত করে।